জাতীয় ডেস্ক: পূর্বঘোষণা অনুযায়ী দেশের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ফলে সারা দেশেই গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে যা আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে। তবে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সাধারণ গ্রাহকদের রান্নার কাজে বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্যাসের চাপ কিছুটা কম অনুভূত হতে পারে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে সারা দেশে মোট গ্যাসের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যায়। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে এলএনজি রূপান্তর করে পাইপলাইনে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে সামিটের মালিকানাধীন একটি টার্মিনালে নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট এই প্রক্রিয়াটি শেষ হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে এবং এর পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
গ্যাস সরবরাহের চাপ হ্রাসের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছিল। অনেকেই চার দিন ধরে দেশজুড়ে সম্পূর্ণ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার গুজব শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মূলত পেট্রোবাংলার পূর্ববর্তী একটি বিজ্ঞপ্তির ভুল ব্যাখ্যা করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অপপ্রচার চালায়। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন এই ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে দেশের বিভিন্ন সময়ে গ্যাসের সংকট দেখা দেওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ছাড়াও শিল্পকারখানা ও দৈনন্দিন জীবনে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণ এটি কোনো স্থায়ী সংকট নয় বরং একটি রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ফল। নির্দিষ্ট এই কাজের সময়সীমা শেষ হলে গ্যাস সরবরাহ আবার আগের মতো পূর্ণমাত্রায় ফিরে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।