প্রযুক্তি ডেস্ক: ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে ওঠা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ওপেনএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান। সম্প্রতি আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত আদিপেক ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, মানব সমাজের ভবিষ্যৎ কী রূপ নেবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবল প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়া কখনোই ঠিক হবে না। প্রযুক্তিগত অগ্রগতির এই যুগে এআই নির্মাতাদের দায়িত্বশীলতা আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে গেছে বলেও তিনি মনে করেন।

আলোচনায় স্যাম অল্টম্যান আরও উল্লেখ করেন যে, এআইয়ের সক্ষমতা দিন দিন যত বৃদ্ধি পাবে, এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহি তৈরি করার বিষয়টি ততোটাই জরুরি হয়ে উঠবে। এই প্রযুক্তিকে মানবজাতির সেবায় নিয়োজিত একটি সাধারণ হাতিয়ার হিসেবেই টিকিয়ে রাখতে হবে এবং সমাজের সামগ্রিক কল্যাণের বিষয়টি কোনোভাবেই যন্ত্রের ওপর ছেড়ে দেওয়া যাবে না। এআইয়ের দ্রুত প্রসারের ফলে মানুষের কর্মসংস্থান ও কাজের ধরনে বড় ধরনের রূপান্তর ঘটতে পারে বলেও তিনি স্বীকার করেন। যদিও কিছু প্রচলিত পেশা এই পরিবর্তনের কারণে কিছুটা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, তবে একই সঙ্গে নানা ধরনের নতুন সুযোগের দুয়ারও উন্মুক্ত হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণের অগ্রণী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন ওপেনএআইয়ের এই শীর্ষ নির্বাহী। তাঁর মতে, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশটি বিশ্বজুড়ে এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রশংসনীয়। এদিকে এই অনুষ্ঠানেই জ্বালানি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নত ব্যবহারের লক্ষ্যে ওপেনএআই এবং আবুধাবিভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জি৪২-এর সঙ্গে নতুন একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইউএইর রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান অ্যাডনক। এই ঐতিহাসিক চুক্তির আওতায় বিশ্বের প্রথম জ্বালানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ওপেনএআইয়ের ফ্রন্টিয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করবে অ্যাডনক, যা তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন ও কূপ ব্যবস্থাপনায় বিপ্লব আনবে।

এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ভবিষ্যতে বিদ্যুতের চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে একই সঙ্গে বিগত বছরগুলোতে এআই কম্পিউটিংয়ের দক্ষতা উল্লেখযোগ্য হারে উন্নত হয়েছে বলেও তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। স্যাম অল্টম্যানের বিশ্বাস, সঠিকভাবে পরিচালিত হলে এই প্রযুক্তি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার সুযোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারবে।