• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
গরম দুধে দুটি কাঁচা ডিম, আর কী খেয়ে তরুণদের ঘুম কাড়তেন মনরো ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৫১ বছর পর লাতিনো গভর্নর বেসেরা, চ্যালেঞ্জ কতটা সামাল দিতে পারবেন আমির হোসেন আমু, শাজাহান খান, দীপু মনিসহ ৭ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার রাজনীতিকের জয় ঢাবির ভাস্কর্য বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে কাওসার হাসানের নিয়োগ প্রশ্নে রুল কেন ডিফেন্ডার বিশ্বনাথকে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলালেন ডুলি নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে জামায়াতের বিক্ষোভ নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন দেবে না জোটসঙ্গী দল ইউটিজে, আরও বেকায়দায় তিনি প্রতিটি শিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে: ডেপুটি স্পিকার পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কারখানা বন্ধ রাখতে চান পোশাকশিল্পের মালিকেরা

গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় মায়ের সংগ্রাম, নটর ডেম থেকে ছেলের জিপিএ–৫

Reporter Name / ২২ Time View
Update : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: ছেলের উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুকে নিয়ে বরিশালের উজিরপুর উপজেলা থেকে রাজধানীর ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন এক সংগ্রামী মা। স্বামীর সীমিত আয়ের সংসারে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি ছেলেকে পড়ালেখার সুযোগ করে দেওয়ার পণ করেছিলেন। রাজধানীর একটি ছোট সাবলেট বাসায় থেকে মা ও ছেলে জীবনের নানা সংগ্রাম মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে থাকেন। মায়ের এই অদম্য জেদ এবং সীমাহীন ত্যাগের মূল উদ্দেশ্যই ছিল একমাত্র সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করে তোলা।

পরিবারের এই কঠিন লড়াইয়ের কাঙ্ক্ষিত প্রতিদান মিলেছে সাম্প্রতিক প্রকাশিত উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষার ফলাফলে। মর্যাদাপূর্ণ নটর ডেম কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ ফলাফল তথা জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন মোহাম্মদ জুবায়ের ইসলাম হামিদ। ফলাফল প্রকাশের পর এই আনন্দের মুহূর্তটি মা ও ছেলের বিগত দিনের সব কষ্ট ও না পাওয়ার বেদনাকে এক নিমিষেই মুছে দিয়েছে। সন্তানের এমন সাফল্যের পেছনে মায়ের নিরলস পরিশ্রম ও ধূপের মতো জ্বলে ওঠার গল্প এখন সবার মুখে মুখে।

শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই জুবায়ের অত্যন্ত মনোযোগী ও মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার শিক্ষকরা। অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজধানীর জটিল নাগরিক জীবন তাদের জন্য কখনোই সহজ ছিল না, কিন্তু কোনো বাধাই তাদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। সাবলেট বাসার ছোট্ট একটি ঘরে আলো জ্বালিয়ে রাতদিন পড়াশোনা করতেন জুবায়ের, আর পাশে থেকে ছায়া হয়ে তাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে গেছেন তার মা। কষ্টের দিনগুলোতে মা কখনোই ছেলেকে বুঝতে দেননি পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা, বরং সবসময় পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।

উচ্চমাধ্যমিকের এই দুর্দান্ত সাফল্যের পর জুবায়েরের চোখে এখন আরও বড় ও সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন। তিনি ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে একজন দক্ষ প্রকৌশলী হয়ে দেশের সেবা করতে চান এবং নিজের মায়ের সব কষ্টের ঋণ পরিশোধ করতে চান। তার এই অভাবনীয় সাফল্যে এলাকাবাসী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও তাকে এবং তার সংগ্রামশীল মাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সমাজের সাধারণ মানুষের কাছে এই মা-ছেলের জুটি এখন এক অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠেছে, যা প্রমাণ করে যে সততা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে সব প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com