শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বন পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের পারশেমারী গ্রামে সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও ম্যানগ্রোভের চারা রোপণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে গ্রিন আর্থ অ্যাকশন ফাউন্ডেশনের (GEAF) সহযোগিতায় এবং সোশ্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (SESDO) বাস্তবায়ন সহযোগিতায় এ কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন GEAF অ্যাম্বাসেডর ২০২৬ তাপস কুমার মল্লিক। ‘ACT for Nature | ACT II: Roots of Hope Reforestation Series’ শীর্ষক উদ্যোগের আওতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।
চার ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবকসহ স্থানীয় কমিউনিটির আরও ৬০ জন অংশগ্রহণকারী যুক্ত হন। কর্মসূচির শুরুতে ম্যানগ্রোভ বনভূমির গুরুত্ব, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, উপকূলীয় সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে নদীর বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকায় ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়।
কর্মসূচির অন্যতম অংশ হিসেবে এক হেক্টর আয়তনের পুনরুদ্ধার কার্যক্রম এলাকায় ফাঁকা স্থানগুলোতে ২১০টি ম্যানগ্রোভের চারা রোপণ করা হয়। এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুতন্ত্রের পুনরুদ্ধারে সহায়তা করা, উপকূলীয় পরিবেশের সুরক্ষা জোরদার করা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণে দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি করা।
এ কার্যক্রম SESDO-এর ‘Mangroves4Life’ উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক পরিবেশগত ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধার পদ্ধতি (CBEMR)-এর অংশ। এ পদ্ধতিতে প্রাকৃতিকভাবে নতুন গাছ জন্মানোর সুযোগ সৃষ্টি, প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরুদ্ধার কার্যক্রম, উপযুক্ত স্থানে অতিরিক্ত চারা রোপণ এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ জলবায়ু অভিযোজন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (SDGs) লিঙ্গসমতা, জলবায়ু কার্যক্রম, জলজ জীবন, স্থলজ জীবন এবং লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারত্ব—এই পাঁচটি লক্ষ্যের সঙ্গেও কর্মসূচিটির সম্পর্ক রয়েছে।
সচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করা এবং বাস্তবভিত্তিক বন পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের মাধ্যমে সুন্দরবন উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত সহনশীলতা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।