আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পর থেকেই সৌদি আরবগামী ফ্লাইট ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে হাজার হাজার প্রবাসী কর্মী ও সাধারণ যাত্রী চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে অনেকেই বিমানবন্দরগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যয় পুরোপুরি কাটানো সম্ভব হয়নি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি সৃষ্ট এই বিমান চলাচলের জটিলতার ফলে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে আট হাজারের বেশি যাত্রী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একের পর এক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল কিংবা স্থগিত হওয়ায় যাত্রীদের পাশাপাশি এয়ারলাইনসগুলোও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। যারা বহু কষ্টে কাজের ভিসা নিয়ে কিংবা ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরছিলেন, তাদের যাত্রাপথ মাঝপথেই থমকে গেছে। অনেক যাত্রীর আকস্মিক ফ্লাইট বাতিলের নোটিশ দেওয়ায় তারা বিমানবন্দরে এসে চরম বিপাকে পড়েন।
এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় সৌদিতে প্রবাসী কর্মীদের কর্মসংস্থান ও পেশাগত জীবন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক কর্মী সময়মতো কাজে যোগ দিতে না পারলে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বিমান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব সামগ্রিক শ্রমবাজার ও বাণিজ্যের ওপর পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থায় গন্তব্যে পাঠানোর জন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে স্বাভাবিক ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি কবে নাগাদ শুরু হতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস মিলছে না। এমতাবস্থায় যাত্রীদের বিমানবন্দরে আসার আগে নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সাথে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।