• শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৮ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
ইমরানের মুক্তির দাবিতে লংমার্চ কেন ছয় দিনেও পাখতুনখাওয়ার বাইরে যেতে পারেনি লন্ডনে কারি লাইফ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬: ব্রিটেনের কারিশিল্পের উজ্জ্বল নক্ষত্ররা সম্মানিত আনন্দ–উচ্ছ্বাসে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা জামায়াত নেতা মুজিবুর রহমানকে দেখতে হাসপাতালে গোলাম পরওয়ার স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার পথ সহজ করতে চায় সরকার: মাহদী আমিন ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘জাতীয় অপমান’ ও ‘ভয়াবহ ব্যর্থতা’: মার্কিন সিনেটর সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের সমন্বয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে মডেল বাংলাদেশ: রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভয়, লজ্জা ও কুসংস্কার দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর এআই কি দাজ্জাল? প্রযুক্তির নতুন জোয়ারে পুরোনো আতঙ্ক ১৮ দিনেও কাটেনি চুয়েটের অচলাবস্থা, অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা

পচা দাঁত থেকে ব্লুটুথ! জেনে নিন এর পেছনের হাজার বছরের পুরোনো গল্প

Reporter Name / ১৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন থেকে কিছু দূরে অবস্থিত জেলিংস শহরটি ভাইকিং যুগের এক ঐতিহাসিক নিদর্শন। এই এলাকার প্রাচীন দুটি রুনলিপি খোদাই করা পাথরে দশম শতকের রাজা হারাল্ড গর্মসনের শাসনামলের নানা ইতিহাস সংরক্ষিত রয়েছে। সে সময় উত্তর ইউরোপের বিভিন্ন ভূখণ্ড আলাদা গোত্রপ্রধানদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও রাজা হারাল্ড খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের মাধ্যমে ডেনমার্ক ও নরওয়েকে একত্রিত করেছিলেন। তাঁরই ডাকনাম ছিল ব্লুটুথ, যা মূলত তাঁর একটি নীলচে বা নষ্ট হয়ে যাওয়া দাঁতের কারণে হয়েছিল বলে ইতিহাসবিদরা ধারণা করেন। প্রাচীন এই রাজার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং দেশ একত্র করার কীর্তি পরবর্তীতে আধুনিক প্রযুক্তির নামকরণে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।

জেলিংসের এই ঐতিহাসিক পাথরগুলো ডেনমার্কের জন্মসনদ হিসেবে পরিচিত এবং এগুলো দেশের রাষ্ট্রগঠনের প্রক্রিয়ার সাক্ষ্য দেয়। সেখানে পাওয়া প্রাচীন নিদর্শন ও গির্জা প্রমাণ করে যে পৌত্তলিক ঐতিহ্য থেকে খ্রিষ্ট ধর্মে রূপান্তরের সময়টি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে এই সমাধিসৌধ এবং রুনস্টোনগুলো ডেনমার্কের প্রথম ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। কিংগার্নেস জেলিংস এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার অ্যান্ড মিউজিয়ামে দর্শনার্থীদের জন্য এসব ইতিহাস ও ভাইকিং সংস্কৃতির নানা উপাদান সংরক্ষণ করা হয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে, এই স্থানটি কেবল যুদ্ধ বা বীরত্বের নয়, বরং পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা থেকে নতুন ব্যবস্থার দিকে উত্তরণের এক চমৎকার গল্প বলে।

১৯৯০-এর দশকের শেষভাগে এসে বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা এমন একটি মাধ্যম তৈরির কাজ করছিলেন যা ভিন্ন ভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। ইন্টেলের মার্কিন প্রকৌশলী জিম কারডাচ সেই সময় ভাইকিং ইতিহাস নিয়ে একটি বই পড়ার সুবাদে রাজা হারাল্ডের বিভিন্ন ভূখণ্ড একত্র করার কৃতিত্ব সম্পর্কে জানতে পারেন। তাঁর মনে হয়েছিল, যেভাবে রাজা বিভিন্ন অঞ্চলকে এক সুতোয় বেঁধেছিলেন, ঠিক তেমনি এই নতুন প্রযুক্তিটিও বিভিন্ন যন্ত্রকে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। এই মিল থেকেই প্রযুক্তিটির সাময়িক কোডনেম হিসেবে ব্লুটুথ নামটি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে শুরুর দিকে বিপণন দলের কাছে এই নামটি খুব একটা আকর্ষণীয় মনে হয়নি এবং তারা এটিকে দাঁতের সমস্যার সঙ্গে তুলনা করে আপত্তি জানিয়েছিল।

প্রাথমিকভাবে বিকল্প কিছু নাম নিয়ে ভাবা হলেও শেষ পর্যন্ত ব্লুটুথ নামটির স্বাতন্ত্র্য এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্যই এটি চূড়ান্ত করা হয়। শুধু নামটিই নয়, বর্তমানের জনপ্রিয় এই প্রযুক্তির লোগোটিও তৈরি হয়েছে প্রাচীন নর্স ভাষার দুটি বর্ণ এইচ এবং বি এর সমন্বয়ে, যা রাজা হারাল্ড ব্লুটুথের নামের আদ্যক্ষর প্রকাশ করে। প্রযুক্তির রজতজয়ন্তী উপলক্ষে জিম কারডাচসহ এর কতিপয় প্রতিষ্ঠাতা জেলিংসের জাদুঘরে গিয়ে রাজা হারাল্ডের নাম অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের জন্য প্রতীকী ক্ষমাও প্রার্থনা করেছিলেন। আজ বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন ওয়্যারলেস সংযোগের ক্ষেত্রে ব্লুটুথ শব্দটি ব্যবহার করলেও, এর পেছনে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের পুরোনো এক ভাইকিং রাজার ইতিহাস।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com