• শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

লাল লিপস্টিক: সাড়ে পাঁচ হাজার বছরের ক্ষমতা, দ্রোহ ও সৌন্দর্যের ইতিহাস

Reporter Name / ৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সৌন্দর্যচর্চার পরিবর্তনশীল দুনিয়ায় বহু প্রসাধনী আসে এবং হারিয়ে যায়, কিন্তু হাজার বছর ধরে রূপচর্চার বাজারে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে লাল লিপস্টিক। প্রসাধন জগতের এই উপাদানটি কেবল সৌন্দর্য বাড়ানোর মাধ্যম নয়, বরং এটি ব্যক্তিত্বের প্রকাশ, আত্মবিশ্বাসের বর্ম এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদের প্রতীক। মেসোপটেমিয়ার গুঁড়া পাথর থেকে শুরু করে আধুনিক স্যাটিন ফর্মুলার যুগে এসেও এর আবেদন এতটুকু ম্লান হয়নি। প্রথা ভাঙার এই সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছরের এক সমৃদ্ধ ও বর্ণিল ইতিহাস।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, খ্রিষ্টপূর্ব সাড়ে তিন হাজার অব্দে মেসোপটেমিয়ার রানি পুয়াবি সাদা সিসা ও লাল পাথর গুঁড়া করে ঠোঁট রাঙাতেন এবং এটি ছিল রাজকীয় মর্যাদার প্রতীক। প্রাচীন মিসরের রানি ক্লিওপেট্রাও বিশেষ পোকা ও লাল পিগমেন্ট গুঁড়া করে মোমের সঙ্গে মিশিয়ে তাঁর নিজস্ব লাল লিপস্টিক তৈরি করতেন। তবে গ্রিক ও রোমান সভ্যতার বিভিন্ন সময়ে এর ব্যবহার নিয়ে নানা ধরনের সামাজিক বিধিনিষেধ ও আইন ছিল। আবার ইউরোপের মধ্যযুগে চার্চের প্রভাবে লাল লিপস্টিক ব্যবহারকে অনৈতিক ও সৃষ্টিকর্তার রূপের বিরোধী বলে গণ্য করা হতো। ষোলো শতকে ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথ অতি ফ্যাকাশে ত্বকের সঙ্গে রক্তিম লাল ঠোঁট ব্যবহার করে পুনরায় রাজকীয় ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে এর প্রচলন করেন।

বিশ শতকের সূচনায় লাল লিপস্টিকের রূপক সম্পূর্ণ বদলে যায় এবং এটি নারী স্বাধীনতার লড়াইয়ের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের ভোটাধিকার আন্দোলনের সময় বিউটি আইকন এলিজাবেথ আর্ডেন আন্দোলনকারীদের হাতে লাল লিপস্টিক তুলে দেন এবং নারীরা প্রকাশ্য মিছিলে লাল ঠোঁটে অংশ নেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার লাল লিপস্টিক অপছন্দ করায় মিত্রশক্তির নারীরা এটিকে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে বেছে নেন। সামরিক বাহিনী ও কারখানাগুলোতেও নারীদের মনোবল বাড়াতে ফাইটিং রেড রঙের লিপস্টিক সরবরাহ করা হতো। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে হলিউডের রুপালি পর্দায় মেরিলিন মনরো ও অড্রে হেপবার্নের হাত ধরে এটি গ্ল্যামারের চূড়ান্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।

আধুনিক যুগেও বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে দ্রোহের ভাষা হিসেবে লাল লিপস্টিক ব্যবহারের ঐতিহ্য বজায় রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সম্প্রতি নিকারাগুয়ায় স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এবং চিলিতে যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে নারীরা লাল লিপস্টিক মেখে রাজপথে নেমেছিলেন। ফরাসি নারীদের ফ্যাশনেও মিনিমালিস্টিক সাজের সঙ্গে লাল লিপস্টিক ফ্রেঞ্চ গার্ল অ্যাসথেটিকের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিন সকালে ঠোঁটে লাল রং বুলিয়ে নেওয়ার এই কাজটি নারীদের হাজার বছরের ইতিহাস, লড়াই ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এক চিরন্তন উৎসবে পরিণত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com