• বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
ক্যামেরাবিহীন এআই চশমা আনছে মেটা নড়াইলে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ভ্যানচালকের মৃত্যু, ছোট ভাই লাইফ সাপোর্টে ‘আব্বু, আমাদের জাহাজে মিসাইল অ্যাটাক হইছে’ কর্মী নেবে ব্যাংক এশিয়া, স্নাতক পাসেই আবেদনের সুযোগ সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ৬৩২ জন এআই দিয়ে বিসিএস গেজেট জালিয়াতি, কুয়াকাটায় আটক ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইরানি প্রেসিডেন্টের বৈঠক, যা আলোচনা হলো নড়াইলে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ যুবক মারা গেছেন, এলাকায় উত্তেজনা ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম আবার চালু করল ইসি যুক্তরাষ্ট্রে বোমারু বিমানসহ চীনের প্রেসিডেন্ট সিকে বিরল অভ্যর্থনা ট্রাম্পের

একটি পরিচ্ছন্ন নান্দনিক শহরের প্রত্যাশা!

Reporter Name / ৩ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মুন্সীগঞ্জ জেলা কেবল একটি জনপদ নয়, বরং এর প্রতিটি অলিগলি, নদীর তীর এবং প্রাচীন স্থাপনার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের পূর্বপুরুষের স্মৃতি। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে এই অঞ্চলের পরিধি বাড়তে শুরু করে এবং মানিকপুর, মাঠপাড়া, খালইস্ট ও ইদ্রাকপুরের মতো এলাকাগুলোতে দ্রুত বহুতল ভবন ও ঘনবসতি গড়ে ওঠে। তবে এই আধুনিকায়ন ও নগরায়ণের স্রোতে শহরের সুপ্রাচীন ঐতিহ্য, পরিবেশ এবং নান্দনিক সৌন্দর্য যথাযথভাবে টিকে আছে কি না, তা নিয়ে সম্প্রতি স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্ন ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সময়ের পরিবর্তনে মানুষের জীবনযাত্রার গতি বৃদ্ধি পেলেও শহরের পুরোনো সামাজিক বন্ধন ও উষ্ণতা অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে বলে মনে করছেন প্রবীণ ব্যক্তিরা।

এই ঐতিহাসিক শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত ইদ্রাকপুর কেল্লা, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই অঞ্চলের গৌরবের প্রতীক হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝেও মুন্সীগঞ্জকে অন্য সব জেলা থেকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে এই প্রাচীন স্থাপনাটি। অন্যদিকে ধলেশ্বরী নদীর নৈসর্গিক সৌন্দর্য এবং ইদ্রাকপুর কেল্লার ঐতিহাসিক গুরুত্বকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে একটি সুদূরপ্রসারী নগর পরিকল্পনা প্রণয়ন করা সম্ভব। ঐতিহাসিক এই নিদর্শনটিকে কেন্দ্র করে একটি আকর্ষণীয় হেরিটেজ জোন বা পর্যটন অঞ্চল গড়ে তোলা হলে তা কেবল স্থানীয় মানুষের বিনোদনের খোরাক জোগাবে না, বরং দূরদূরান্তের ভ্রমণপিপাসুদেরও সমানভাবে আকৃষ্ট করবে।

দ্রুতগতির নগরায়ণের ফলে মুন্সীগঞ্জে এখন নানামুখী নাগরিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে অপরিকল্পিত স্থাপনা এবং যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়। তবে কেবল প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। প্রত্যেকে যদি নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা আবর্জনা ফেলেন এবং সরকারি স্থান বা ফুটপাত দখল করা থেকে বিরত থাকেন, তবে শহরের সিংহভাগ নোংরা ও শৃঙ্খলার সংকট সহজেই দূর করা সম্ভব। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নিজেদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জকে একটি আধুনিক ও পর্যটনবান্ধব নগরী হিসেবে রূপান্তর করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই, যেখানে আবাসিক, বাণিজ্যিক এবং উন্মুক্ত স্থানগুলো সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত থাকবে। ঐতিহাসিক কেল্লার চারপাশ দৃষ্টিনন্দন সবুজায়ন, হাঁটার পথ, পর্যাপ্ত আলো এবং তথ্যসমৃদ্ধ সাইনেজ দিয়ে সাজালে পুরো শহরের রূপই বদলে যেতে পারে। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে এই সম্মিলিত উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও ঐতিহ্যবাহী মুন্সীগঞ্জ উপহার দিতে হলে আজ থেকেই প্রতিটি নাগরিককে নিজ দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com