• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন দেবে না জোটসঙ্গী দল ইউটিজে, আরও বেকায়দায় তিনি প্রতিটি শিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে: ডেপুটি স্পিকার পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কারখানা বন্ধ রাখতে চান পোশাকশিল্পের মালিকেরা আদা চাষে প্রণোদনা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী তেল–গ্যাস খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান মজুরি বোর্ডের দ্বিতীয় সভা সোমবার, প্রস্তাব দেবেন শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাংলাদেশকে এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পাশাপাশি সমাজকল্যাণেও এগিয়ে প্রথম আলো: আরিফ দৌলা ৬ শিক্ষার্থী, ১১ শিক্ষক-কর্মচারী: সেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শোকজ আকুর বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ নামল ৩০ বিলিয়নের নিচে

তেল–গ্যাস খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান

Reporter Name / ১২ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং এই অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার জন্য দেশটি থেকে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। দুই দেশের ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব জোরদার করার প্রধান উদ্দেশ্য নিয়ে সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ইউএস ট্রেড শো শুরু হয়েছে। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ অর্থাৎ অ্যামচেম এবং ঢাকার মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে এই বাণিজ্য প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে, যেখানে জ্বালানি, কৃষি, খাদ্যপণ্য, প্রসাধনী ও নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন খাতের মার্কিন পণ্য এবং প্রযুক্তি প্রদর্শিত হচ্ছে। দীর্ঘ আড়াই বছর পর পুনরায় এই প্রদর্শনী শুরু হওয়ায় দেশের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে এবং এটি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এই বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি জানান যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে কাজ করছে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই প্রদর্শনী আয়োজনের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের পারস্পরিক যোগাযোগের পরিধি আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বলেন যে দেশের শিল্প খাতের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জনে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ অত্যন্ত সহায়ক হবে। এছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে দুই দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে মার্কিন সরকারের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে দেশের জ্বালানি খাতের অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে স্পিকার বিশেষ করে তেল ও গ্যাস খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর জোরালো আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে ভোলার গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে এবং বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে বিশাল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস ও জ্বালানি তেল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, যা যথাযথভাবে উত্তোলন করা গেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এছাড়াও বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতির আওতায় তথ্যপ্রযুক্তি, ই-কমার্স এবং বন্দরকেন্দ্রিক লজিস্টিকস হাবসহ ১৯টি সম্ভাবনাময় খাত চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলোতে প্রায় দশ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কৌশলগত খাতে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত প্রযুক্তি, মূলধন ও পেশাগত দক্ষতা কাজে লাগানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অ্যামচেমের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং বিগত তিন দশক ধরে এই ট্রেড শো কীভাবে দুই দেশের বাজারের মধ্যে সেতু বন্ধন হিসেবে কাজ করে আসছে তা সবার সামনে তুলে ধরেন।

প্রদর্শনী উদ্বোধনের প্রথম দিনেই নারী নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়নকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়, যা অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। মাস্টারকার্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। সেখানে তিনি বলেন যে দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী হলেও শ্রমশক্তিতে তাঁদের অংশগ্রহণ এখনো আশানুরূপ নয় এবং বাল্যবিবাহ কিংবা শিক্ষায় ঝরে পড়ার মতো সামাজিক বাধাগুলো দূর করতে হবে। নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ডে-কেয়ার সেন্টার চালুর মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ওই সেমিনারে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, ফরেন চেম্বারের সভাপতি রূপালী হক চৌধুরীসহ বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা ও কূটনীতিকরা প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নিয়ে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com