জাতীয় ডেস্ক: দেশের তৈরি পোশাকশিল্প খাতে সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার পেছনে একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র কাজ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সময়ে দেশের প্রায় ছয়শত নব্বইটি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক হিসেবে না দেখে এর পেছনে রাজনৈতিক কোনো অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে জোরালো সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে এই শ্রম অসন্তোষের পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ ইন্ধন রয়েছে বলে মনে করছে নীতিনির্ধারক মহল।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, দেশের অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে সাধারণ পোশাক শ্রমিকদের পাশাপাশি হকারদেরও রাজপথে নামানোর একটি বিপজ্জনক পরিকল্পনা বা ছক বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক দলটির কিছু নেতাকর্মী ও সমর্থক পর্দার আড়ালে থেকে শ্রমিকদের উসকানি দিচ্ছে এবং তাদের যৌক্তিক দাবিগুলোকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন উৎপাদনমুখী শিল্প খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের একটি স্থিতিশীল অবস্থাকে নস্যাৎ করতে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সুপরিকল্পিতভাবে এই অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছে। কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান এই খাতটি বড় ধরনের সংকটে পড়বে, যা প্রকারান্তরে পুরো জাতীয় অর্থনীতিকেই দুর্বল করে দেবে। এই প্রেক্ষাপটে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিক ভাইবোনদের যেকোনো উসকানি থেকে দূরে থাকার এবং গুজবে কান না দিয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে এবং এর সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।