• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
সংখ্যালঘু ভোটে চোখ বিএনপি-জামায়াতের, কঠোর নিরাপত্তায় উপনির্বাচন দুই ব্রিটিশ এমপিকে ৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, পশ্চিম তীরে প্রবেশে বাধা উষ্ণ অভ্যর্থনা, গার্ড অব অনারের পর তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সানায়ে তাকাইচি জাপান-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত পত্রিকা: ‘প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বাসভবনের দায়িত্বে আ’লীগপন্থী কর্মকর্তারা’ চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের চাকরি, আবেদন ৮ ডিসেম্বরের পর্যন্ত ‘অর্ণব’ রূপ নিয়েছে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে, ৩ নম্বর সতর্কতা জাহাজ নির্মাণ শিল্প: হাতছাড়া হচ্ছে অপার সম্ভাবনা যুদ্ধের হিসাব, জনতার রায়—নেতানিয়াহুর ভাগ্যপরীক্ষার দিন আজ যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতি ধরিয়ে দিলে মিলবে ১০ লাখ ডলার: ট্রাম্প

মাদক কারবার: দম্পতির ব্যাংক হিসাবে ১৩ কোটি লেনদেন

Reporter Name / ১২ Time View
Update : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: কারাগারে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করা চাঁপাইনবাবগঞ্জের কুখ্যাত মাদক কারবারি জুয়েল রানা ও তাঁর স্ত্রী সালমা জাহানের ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুসন্ধানে এই দম্পতির ২৪টি ব্যাংক হিসাবের সন্ধান মিলেছে, যেগুলোতে গত কয়েক বছরে প্রায় ১৩ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। মূলত হেরোইন ব্যবসার অবৈধ অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে এসব ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করা হতো বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন। এসব চাঞ্চল্যকর তথ্যের ভিত্তিতে ওই দম্পতির সমস্ত ব্যাংক হিসাব এবং স্থাবর সম্পত্তি জব্দের জন্য আদালতে আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছে। তদন্ত কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার পর স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, জুয়েল রানার নামে থাকা ১২টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা এবং তাঁর স্ত্রী সালমার নামে থাকা সমপরিমাণ ১২টি হিসাবে প্রায় পৌনে সাত কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এই বিশাল অঙ্কের অর্থের কোনো বৈধ আয়ের উৎস খুঁজে পায়নি তদন্ত দল। অনুসন্ধানে জানা যায়, জুয়েল তাঁর অবৈধ মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করতেন এবং সেই অর্থ দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় স্থাবর সম্পত্তি কেনেন। জুয়েলের নামে থাকা একটিমাত্র আয়কর ফাইল থাকলেও তাঁর ব্যাংক হিসাবের এই বিপুল অর্থের কোনো যৌক্তিক ভিত্তি দেখাতে পারেননি তিনি। প্রাথমিক তদন্তে এই দম্পতির নামে একাধিক জমি ও বাড়ির হদিস পাওয়া গেলেও বাজারমূল্য দলিলে দেখানো দামের চেয়ে বহুগুণ বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কৈশোর থেকেই সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক বহনের মধ্য দিয়ে অপরাধ জগতে পা রাখা জুয়েল রানা পরবর্তীতে নিজেই একটি বিশাল মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। ভারত থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে হেরোইন এনে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাইকারি মূল্যে সরবরাহ করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে এবং রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে তিনি হেরোইন ব্যবসার অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত। এর আগে বেশ কয়েকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হলেও ক্ষমতার জোড়ে জামিন পেয়ে আবার অপরাধ জগতে ফিরে আসেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে একটি মাদক মামলায় আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করার পর থেকেই তিনি কারাবাস করছেন।

যদিও প্রধান কারবারি কারাগারে বন্দি রয়েছেন, তবে তাঁর গড়া মাদক নেটওয়ার্ক এখনো পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে জুয়েলের অনুপস্থিতে তাঁর পরিবারের সদস্য এবং সহযোগীরাই এই বিশাল মাদক সিন্ডিকেটের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। পাশাপাশি, উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে তাঁকে মুক্ত করার জন্য চক্রের সক্রিয় সদস্যরা নানা ধরনের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। মাদক কারবারের মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ সম্পদ বাজেয়াফত এবং এই অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com