
শিক্ষা ডেস্ক: দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার পরিধি আরও সমৃদ্ধ করতে নতুন শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে মোট চারটি নতুন বই সংযোজন করা হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) পৃথক দুটি সভায় এই নতুন পাঠ্যবইগুলোর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু পরিমার্জন সাপেক্ষে বইগুলো চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে এবং সংশ্লিষ্ট মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতিমধ্যেই বই ছাপার কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত এই নতুন বইগুলোর মোট সংখ্যা দেড় কোটিরও বেশি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’ নামক দুটি নতুন বই পড়ার সুযোগ পাবে। অন্যদিকে ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’ নামের আরও দুটি নতুন বই। এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, এই চারটি বই সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হলেও এসব বিষয়ে কোনো প্রথাগত বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষার বাড়তি চাপ কমাতে এসব বিষয়ে কেবল ধারাবাহিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা তাদের আনন্দদায়ক শিখন নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
নতুন সংযোজিত বইগুলোর বিষয়বস্তু এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা তাত্ত্বিক পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করতে পারে। ষষ্ঠ শ্রেণির ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বইটিতে কারিগরি শিক্ষার পরিচিতি, প্রযুক্তি, উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পেশার নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে সাহায্য করবে। এছাড়া ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বইটিতে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা এবং সামাজিক মূল্যবোধের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে চতুর্থ শ্রেণির ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইয়ে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও উৎসবের পাশাপাশি ‘খেলাধুলা’ বইটিতে ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার ও কাবাডিসহ আটটি প্রধান খেলার মৌলিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে পাঠ্যবইয়ে আরও কিছু বড় পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিটিবি, যার অংশ হিসেবে আগামী শিক্ষাবর্ষে ইতিহাস ও অন্যান্য বিষয়ের পাঠ্যসূচিতে নানা নতুন তথ্য যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ের কিছু নির্দিষ্ট ছবি ও বর্ণনার সংশোধন প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত সভাগুলোর মাধ্যমে এই পাঠ্যবইয়ের অনুমোদন ও পরিমার্জন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও সময়োপযোগী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।