• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
‘সিংহাসন টিকিয়ে রাখতে যতটুকু দরকার, বিএনপির কাছে গণঅভ্যুত্থানের ততটুকু হালাল’ ইতিহাসে এবারই প্রথম নিরাপদে দুর্গাপূজা সম্পন্ন, সরকারকে ধন্যবাদ: পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্ট ‘যারা রক্ত দিয়েছেন তাদের বাদ দিয়ে ক্ষমতার জোরে সংবিধান সংশোধন টেকসই হবে না’ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ছায়ায় বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আজ বিরোধী দলকে গালাগালি করা ছাড়া বিএনপির আর কোনো যোগ্যতা নেই পদোন্নতির দাবিতে মাউশিতে প্রভাষকদের অবস্থান কর্মসূচি ভূমিমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি হজের ইতিহাস তুলে ধরতে বিশেষ জাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনা দেশের ধনী পরিবারের শিশুদের রক্তে সিসার পরিমাণ বেশি টানা ৮ দিন পর বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু

হজের ইতিহাস তুলে ধরতে বিশেষ জাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনা

Reporter Name / ১০ Time View
Update : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিমপ্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়ায় হজের বর্ণাঢ্য ইতিহাস এবং এর সঙ্গে জড়িত ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য একটি বিশেষ জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির সরকার মনে করে, পবিত্র হজের যাত্রার সঙ্গে কেবল ধর্মীয় ইবাদত নয়, বরং ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং আধুনিক রাষ্ট্র গঠনার ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রতি বছর বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় এই রাষ্ট্রটি থেকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদিতে যান, যা এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে ইসলামের আত্মিক সম্পর্কের দীর্ঘ পরম্পরাকে ফুটিয়ে তোলে। প্রস্তাবিত এই জাদুঘরটি নির্মিত হলে সাধারণ মানুষ এবং গবেষকরা দেশটির ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অজানা অধ্যায়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এই যুগান্তকারী জাদুঘর প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ঔপনিবেশিক আমলের বিভিন্ন আন্দোলন এবং সংগ্রামে দেশটির বিশিষ্ট আলেম, শিক্ষক ও ইসলামি পণ্ডিতদের ঐতিহাসিক ভূমিকা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই প্রদর্শশালায় কেবল হজের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের অবদানের পাশাপাশি জ্ঞান বিনিময়ের ইতিহাসও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পাবে। এর মাধ্যমে দেশের তরুণ সমাজ তাদের গৌরবময় অতীত সম্পর্কে গভীর ধারণা লাভ করতে সক্ষম হবে বলে নীতি নির্ধারকরা আশা প্রকাশ করেছেন।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সংস্কৃতিমন্ত্রী ফাদলি জন এবং উপ-হজমন্ত্রী দাহনিল আনজার সিমাঞ্জুনতাক জাদুঘরের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। উপ-হজমন্ত্রী তার এক বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেছেন যে, ইন্দোনেশীয়দের কাছে হজের যাত্রা কেবল একটি তীর্থভ্রমণ ছিল না, বরং এটি ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলনের এক শক্তিশালী প্রতীকে রূপ নিয়েছিল। দেশের প্রতিষ্ঠাতাদের অনেকেই হজ পালন করেছিলেন এবং তাদের হাত ধরেই সমাজে স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঐতিহাসিক নথিপত্র সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এই জাদুঘরটি নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন বিদেশি প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে থাকা অমূল্য নিদর্শনগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার পথ প্রশস্ত করবে। ডাচ ঔপনিবেশিক শাসনের দীর্ঘ সময়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে যেসব ঐতিহাসিক দলিল ও সামগ্রী বিদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেগুলোর একটি বড় অংশ এখন ইউরোপের বিভিন্ন জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। পরিকল্পিত এই সংগ্রহশালায় প্রাচীন আর্কাইভ, দুর্লভ ছবি, ঐতিহাসিক ভ্রমণ নথি এবং বিভিন্ন যুগের মুসলমানদের জীবনযাত্রার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হবে। এটি কেবল একটি নিছক প্রদর্শনশালা হবে না, বরং ইতিহাসচর্চা, গবেষণা এবং শিক্ষণীয় নানা কর্মকাণ্ডের একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com