• মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

এসব ভিসি লইয়া আমরা কী করিব

Reporter Name / ৯ Time View
Update : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

শিক্ষা ডেস্ক: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নতুন উপাচার্য বা ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র অস্থিরতা ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকার কর্তৃক নিযুক্ত নতুন উপাচার্যের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা কর্মকর্তা—কারো কোনো ধরনের আস্থা নেই। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, এর আগে যে উপাচার্যকে অপসারণ করা হয়েছিল, তাকেই যেন পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু ক্ষমতাসীন মহলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নানা সমীকরণের জেরে মাত্র অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে সেই উপাচার্যকে সরিয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হলে ক্যাম্পাসে অসোভোষ দানা বেঁধে ওঠে। সব মহলের জোরালো আপত্তি সত্ত্বেও নবনিযুক্ত উপাচার্য নিজের পদে অনড় থেকে যোগদানের চেষ্টা চালিয়ে যান, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

উপাচার্যের যোগদানের তীব্র বিরোধিতা করে শিক্ষার্থীরা তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিলে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। তবে নবনিযুক্ত উপাচার্য ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং চেয়ারে বসে পড়েন। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তার কার্যালয়ের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করে দেন, যার ফলে তিনি ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করা হয় যে ওই উপাচার্য আর ক্যাম্পাসে ফিরে আসবেন না, মূলত এই শর্তেই তাকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করা সম্ভব হয়।

হাসপাতাল থেকে ছাড় পাওয়ার পর উপাচার্য ক্যাম্পাসে না ফিরে সার্কিট হাউসে অবস্থান নেন এবং সেখান থেকেই অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা ডাকার চেষ্টা করেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সেই ভার্চুয়ালি আহূত সভায় কোনো শিক্ষক প্রতিনিধি অংশ নেননি, যা থেকে স্পষ্ট প্রতিভাত হয় যে শিক্ষক সমাজও তার এই নিয়োগ কোনোভাবেই মেনে নিচ্ছেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্পষ্ট বিরোধিতার মুখেও তিনি কেন দায়িত্ব পালনে মরিয়া হয়ে আছেন, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। পদের প্রতি অতিরিক্ত মোহ বা অন্ধ অনড় মনোভাবের কারণে তিনি অনুধাবন করতে পারছেন না যে এমন পরিস্থিতিতে একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা কতটা অবাস্তব ও অসম্ভব একটি বিষয়।

দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে প্রশাসন পরিচালনার যে সংস্কৃতি চলে আসছে, বর্তমান সংকটেও তার ব্যতিক্রম ঘটছে না। বিগত সরকারের আমলেও দলীয় বিবেচনায় অনেক উপাচার্য নিয়োগ পেয়েছিলেন, যাদের কেউ কেউ পরবর্তীতে ছাত্র-শিক্ষক আন্দোলনের মুখে নানা আইনি জটিলতা ও নিপীড়নের অভিযোগে পড়েছেন। অথচ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত করে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মুক্তবুদ্ধির চর্চাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার এক সোনালী সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে শিক্ষক ও উপাচার্য নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সেই কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বা বিচক্ষণতার অভাব স্পষ্টভাবেই চোখে পড়ছে, যা সামগ্রिक উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com