• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

এডিপি বাস্তবায়নে পিছিয়ে ২৬ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ

Reporter Name / ৯ Time View
Update : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য পিছিয়ে রয়েছে ২৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ বা আইএমইডি এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পৃথক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই প্রতিবেদনগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট ২৬টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প বাস্তবায়নের বর্তমান অগ্রগতি দেশের জাতীয় গড় হারের চেয়েও কম।

আইএমইডি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ওই অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের জাতীয় গড় অগ্রগতি ছিল ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশের মোট ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ২৬টির কাজের গতি এই গড়ের নিচে অবস্থান করছে, যদিও বাকি ৩০টি প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি ছিল সন্তোষজনক। পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় রয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর। এর মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের পাঁচটি প্রকল্পের অগ্রগতি সবচেয়ে কম মাত্র ১৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে।

সরকারি প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে এমন ধীরগতির পেছনে বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদী কাঠামোগত কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রকল্পের যেকোনো সংশোধনী অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা, নির্ধারিত সময়ে অর্থছাড় ও বিল পরিশোধে জটিলতা, দরপত্র আহ্বান ও ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণ এবং জটিল জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত নানা সমস্যা। এসব জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের সুফল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, যা সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের এই স্থবিরতা কাটাতে এবং গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নতুন কিছু উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বৈঠকে জানানো হয়েছে যে, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নতুন নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে যেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বেসরকারি অভিজ্ঞ ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞদেরও দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে। এছাড়া, একই বৈঠকে কর্ণফুলী টানেলের আর্থিক অবস্থা তুলে ধরে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। সংযোগ সড়কের ঘাটতি, শিল্পায়ন ও পর্যটনের বিকাশ না হওয়াসহ টানেলের লোকসানের নানা কারণও সেখানে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com