জাতীয় ডেস্ক: দেশের জ্বালানি খাতের রূপান্তর ও নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (ডেসকো), আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর এবং ফাইবার অ্যাট হোম লিমিটেডের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সরকারি স্থাপনাগুলোর অব্যবহৃত ছাদ ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। এর মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ খাতের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি সরকারি ভবনে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
এই চুক্তির আওতায় রাজধানীর জাতীয় গ্রন্থাগার ভবনের ছাদে ৩০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি আধুনিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এটি মূলত ডেসকোর বাস্তবায়নাধীন ১২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বৃহত্তর সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি অংশ। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ডেসকোর পক্ষে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গাজী শাহরিয়ার পারভেজ, আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের পক্ষে পরিচালক ফারজানা সুলতানা এবং ফাইবার অ্যাট হোমের পক্ষে প্রকল্প পরিচালক শাহজামান হোসেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ সফলভাবে শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম জানান, আগামী গ্রীষ্ম মৌসুমের সম্ভাব্য বিদ্যুতের ঘাটতি সফলভাবে মোকাবিলা করতে সরকার বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সব সরকারি দপ্তরে ছাদভিত্তিক সোলার প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকার এই খাতের বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় আর্থিক প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা ঘোষণা করেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছাদের সোলার থেকে উৎপাদিত নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে তা ক্রয় করবে সরকার। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে মাত্র ১ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা আগামী বছর থেকে কার্যকর হবে। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভাগ, ডেসকো ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।