• মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

ভেঙে পড়তে পারে ইসরায়েল রাষ্ট্র, গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা: সিআইএ–এর প্রতিবেদন

Reporter Name / ১৩ Time View
Update : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর একটি সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে বলা হয়েছে যে, নিজেদের মধ্যকার রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার কারণে ইসরায়েল মারাত্মক অভ্যন্তরীণ ভাঙন এবং সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে। ড্রপ সাইট নিউজ নামের একটি বিকল্প ধারার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, ‘ফ্র্যাকচার ফ্রম উইদিন’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সিআইএর বিশেষ ‘রেড সেল’ ইউনিট। সাধারণত প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে বিকল্প বিশ্লেষণ দেওয়ার কাজটি করে থাকে এই আধা-স্বাধীন দল। আসছে ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গন অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় বিশ্লেষকেরা এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ওই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে ইসরায়েলি সমাজের সবচেয়ে বড় বিভাজনগুলোর একটি হিসেবে অতি-রক্ষণশীল ইহুদি বা আল্ট্রা-অর্থোডক্স সম্প্রদায়ের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক ছাড়ের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে এই সম্প্রদায়ের পুরুষেরা ইয়েশিভায় ধর্মীয় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুবাদে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছেন। তবে গাজা উপত্যকা ছাড়াও লেবানন, সিরিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে চলমান বিভিন্ন সংঘাতে লাখ লাখ রিজার্ভ সেনা মোতায়েন করার পর এই ছাড় বাতিলের দাবি জোরালো হয়েছে। নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোটে থাকা দুটি প্রধান আল্ট্রা-অর্থোডক্স দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ও শাস ১৯৯৬ সাল থেকে তাঁর অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে কাজ করলেও, এই সামরিক আইন নিয়ে জোটে গভীর বিরোধ তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইন পাস করতে বর্তমান জোটের বারবার ব্যর্থতা এবং সামরিক সেবা এড়িয়ে চলার দায়ে তরুণদের আটকের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইসরায়েলে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও সহিংসতা বৃদ্ধির পেছনে আরও বেশ কিছু কাঠামোগত ও সামাজিক কারণ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটিতে বর্তমানে দশ হাজারের বেশি ভারী অস্ত্রে সজ্জিত সাবেক সেনা বেসামরিক জীবনে ফিরে এসে নিজেদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন, যাঁদের অনেকেই নিয়ম অনুযায়ী বাড়িতে অস্ত্র রাখার অনুমতি পান। পাশাপাশি দখলকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও খাদ্যের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং সামরিক খাতের ব্যয় বেড়ে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন থেকে স্পষ্ট কোনো রায় না আসার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, নেতানিয়াহু বা তাঁর বিরোধী জোট কেউই পার্লামেন্টে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় একষট্টি আসন অর্জনে ব্যর্থ হতে পারে। এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বিদেশি প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ ও নিয়োগ কমিয়ে দিলে অথবা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে অবনতি ঘটলে ইসরায়েলের অর্থনীতি আরও চাপের মুখে পড়তে পারে। তবে প্রতিবেদনে মূলত ইহুদি নাগরিকদের মধ্যকার মতপার্থক্য ও বিভাজনকে কেন্দ্র করেই বেশি আলোকপাত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক পঞ্চমাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক হলেও তাঁদের কাঠামোগত বৈষম্য ও উত্তেজনার বিষয়টি এই বিশ্লেষণে আলাদাভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়নি। এর আগে আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে দেশটির আরব বা ফিলিস্তিনি রাজনীতিকদের নির্বাচন অংশগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে, যা সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও বেশি অনিশ্চিত করে তুলেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com