মাদকের টাকার দাবিতে মাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং উত্ত্যক্ত করার অপরাধে এক তরুণকে কঠোর শাস্তি দিয়েছে আদালত। অভিযুক্ত ওই তরুণ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উপায়ে তার নিজ মাকে বিরক্ত করে আসছিলেন এবং মাদকের অর্থ জোগাড়ের জন্য নানা ধরনের অত্যাচার চালাতেন। পরিবারের বারবার নিষেধ সত্ত্বেও তিনি তার এই ধ্বংসাত্মক আচরণ থেকে সরে আসেননি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
পরিবারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলে বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আদালতে গড়ায়। মামলার শুনানিকালে বিচারক আসামির অপরাধের গভীরতা ও সামাজিক প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর আদালত অভিযুক্ত তরুণকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করে।
রায় দেওয়ার সময় বিচারক এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তার সাজার মেয়াদ নির্ধারণ করেন। বিচারিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মা নিজের গর্ভে সন্তানকে যেভাবে ১০ মাস ১০ দিন লালন-পালন করে পৃথিবীতে আনেন, সেই মায়ের সঙ্গেই এমন অকৃতজ্ঞসুলভ আচরণ ক্ষমার অযোগ্য। তাই মাতৃত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে ঠিক ওই মেয়াদে অর্থাৎ ১০ মাস ১০ দিনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
সমাজ সচেতন মহলের মতে, এই ধরনের রায় বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে পারিবারিক মূল্যবোধ এবং মা-বাবার প্রতি দায়িত্ববোধ বাড়াতে সাহায্য করবে। মাদকের ভয়াবহ ছোবল কীভাবে একটি পরিবারের অভ্যন্তরীণ শান্তি বিনষ্ট করে এবং আপন সম্পর্ককে ধ্বংস করে, এই ঘটনা তারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। সাজা ভোগের মাধ্যমে ওই তরুণ তার ভুল বুঝতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।