ঠান্ডা লাগলে বা অ্যালার্জির কারণে বারবার হাঁচি হওয়ার বিষয়টি খুবই সাধারণ। সাধারণত যখন কোনো ক্ষতিকর কণা বা ধূলিকণা নাকের ভেতরে প্রবেশ করে, তখন নাসারন্ধ্রের সংবেদনশীল অংশটিতে ধাক্কা লাগে এবং এর প্রতিক্রিয় হিসেবে হাঁচির সৃষ্টি হয়। মূলত নাকের ভেতরের স্নায়ুগুলো যখন কোনো বাহ্যিক উপাদানের উপস্থিতি টের পায়, তখনই মস্তিষ্ক থেকে হাঁচির মাধ্যমে তা দূর করার নির্দেশ আসে।
তবে একটি মজার বিষয় হলো, মানুষ যখন রাতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে, তখন সাধারণত এই বিরক্তিকর হাঁচির সমস্যায় পড়তে হয় না। এর প্রধান কারণ হলো ঘুমের সময় চারপাশের পরিবেশ তুলনামূলক শান্ত থাকে এবং ঘরে মানুষের চলাচল না থাকায় বাতাসে ধূলিকণা ওড়ার সুযোগ থাকে না। ফলে বাতাসে আলোড়ন তৈরি না হওয়ায় ধুলাবালিগুলো ঘরের মেঝেতে থিতিয়ে পড়ে এবং নাকের ভেতরে তা প্রবেশের সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বা এসি ঘরে ঘুমালেও এই কারণে হাঁচি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না, কারণ এসির নিজস্ব ফিল্টার বাতাস থেকে সমস্ত ধুলাবালি পরিষ্কার করে রাখে। তবে এসি বন্ধ করে দেওয়ার পর তা পুনরায় চালু করা হলে মেঝেতে জমে থাকা ধূলিকণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং তা নাকে প্রবেশ করলে হাঁচি শুরু হতে পারে। তবে এটি মূলত ঘুম ভাঙার পরের ঘটনা হিসেবেই গণ্য করা হয়।
অন্যদিকে, বসন্তকালে বাতাসে বিভিন্ন গাছের ফুলের রেণু বা পরাগ ছড়িয়ে পড়ার কারণে অ্যালার্জিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কিছুটা ভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় অতিরিক্ত অ্যালার্জির সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের ঘুমের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হয়, যা তাদের স্বাভাবিক ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তবে সাধারণ অবস্থায় রাতের বেলা ঘরের পরিবেশ শান্ত থাকার কারণে হাঁচি থেকে অনেকটাই স্বস্তি মেলে।