• বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৯ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

বিকাশ, রবিসহ পাঁচ প্রতিষ্ঠান পেল ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন

Reporter Name / ১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশের আর্থিক খাতে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সাম্প্রতিক এক সভায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ব্যাংকিং খাতের পরিধি সম্প্রসারণে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়ার পর এখন এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে লেটার অব ইনটেন্ট বা এলওআই প্রদান করা হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই ব্যাংকগুলো পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।

প্রাথমিক অনুমোদন পেতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় রয়েছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বেশ কিছু নামী প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছে জনপ্রিয় মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের শেয়ারধারীরা। এছাড়া বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন ও স্কয়ার গ্রুপের যৌথ উদ্যোক্তায় গঠিত নোভা ডিজিটাল ব্যাংক এবং রবির মূল প্রতিষ্ঠান আজিয়াটা লিমিটেডের উদ্যোগে গড়া বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক এই অনুমোদন পেয়েছে। এই তালিকায় আরও রয়েছে ভুটানের ডিকে ব্যাংকের উদ্যোক্তায় গঠিত ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান এবং কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক, যেগুলো দেশের ফিনটেক খাতে নতুন প্রতিযোগিতার জন্ম দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা নানা আলোচনা, নীতিমালা পরিবর্তন, আবেদন যাচাই-বাছাই এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতা পার করে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এল। বিগত সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য মোট ১৩টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের পেছনে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী, মোবাইল অপারেটর, ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থা এবং এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানা ও সম্পৃক্ততা ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরবর্তীতে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা, উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা, মূলধন এবং নিয়ন্ত্রক শর্ত পালনের সক্ষমতা নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করে। দীর্ঘ এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষে প্রাথমিকভাবে আটটি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হলেও শেষ পর্যন্ত পর্ষদের অনুমোদন পেল পাঁচটি প্রতিষ্ঠান।

বর্তমানে দেশের সার্বিক ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও গ্রাহক আস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও সংকট চলছে। এমন একটি সময়ে ডিজিটাল ব্যাংকের এই সংযোজন আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করতে সাহায্য করবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। কোনো ধরনের শারীরিক শাখা ছাড়াই সম্পূর্ণ অনলাইনে বা অ্যাপের মাধ্যমে সেবা প্রদান করাই হবে এসব ব্যাংকের মূল বৈশিষ্ট্য, যা প্রত্যন্ত অঞ্চলে আধুনিক ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা রাখবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com