মাদকদ্রব্য সেবনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) চারজন শিক্ষার্থীকে তাদের আবাসিক হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি এই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা রুয়েটের লেফটেন্যান্ট শহীদ সেলিম হলের নিয়মিত আবাসিক ছাত্র হিসেবে বসবাস করছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিবেশ নিরাপদ রাখতে এই ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
হল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা হলের ভেতরে নিয়ম বহির্ভূতভাবে গাঁজা সেবন করে আসছিলেন বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক গোপনীয় তদন্ত শুরু হয়। পরবর্তীতে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরই হল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ছাত্রদের বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্যাম্পাসের ভেতরে কিংবা আবাসিক হলের সীমানায় কোনোভাবেই মাদক বা বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। অভিযুক্ত চার শিক্ষার্থীর সিট বাতিলের পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আরও বড় কোনো একাডেমিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং মাদকের কালো হাত থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শিক্ষাঙ্গনে মাদকের বিস্তার রোধে রুয়েট প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সচেতন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাদের মতে, শুধু আবাসিক হল থেকে সিট বাতিল নয়, বরং মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি এবং কঠোর কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে যাতে কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের ক্ষতিকর ও বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হলের প্রভোস্ট ও হাউস টিউটরদের আরও বেশি সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।