• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

বদলে যাচ্ছে পদ্মার গতিপথ, বাড়ছে ভাঙন ও ঘূর্ণিস্রোতের ঝুঁকি

Reporter Name / ৮ Time View
Update : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পদ্মা নদীর প্রাকৃতিক গতিপ্রকৃতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা দেশের পানিসম্পদ ও নদীমাতৃক জনপদের জন্য নতুন শঙ্কার জন্ম দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে যে, নদীটির স্বাভাবিক স্রোতধারা ক্রমশ পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে সরে যাচ্ছে। অপরিকল্পিত মানবসৃষ্ট হস্তক্ষেপ এবং ভূরাজনৈতিক নদীর উজানের নানা কার্যক্রমের কারণে পদ্মার এই রূপান্তর ঘটছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের অংশে অবস্থিত ফারাক্কা বাঁধের দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব এবং শুষ্ক মৌসুমে নদীতে আশঙ্কাজনকভাবে পানি প্রবাহ কমে যাওয়ার ফলেই মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি নদীশাসনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছাড়াই যত্রতত্র বাঁধ ও সেতু নির্মাণ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে তলদেশের ভারসাম্য সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

নদীর গতিপথ পরিবর্তনের এই বিপজ্জনক প্রবণতার ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদীভাঙনের তীব্রতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া নদীর বিভিন্ন অংশে অস্বাভাবিক ঘূর্ণিস্রোতের সৃষ্টি হওয়ায় জলপথের যাতায়াত এবং নৌ চলাচলের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। স্থানীয় জনপদগুলো এই তীব্র ভাঙনের কারণে প্রতিনিয়ত মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা riparian জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।

নদীর ভাঙন রোধে এবং শহর রক্ষায় বিভিন্ন সময়ে টি-বাঁধ ও গাইডওয়াল নির্মাণের মতো কিছু সাময়িক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা দিয়ে স্থায়ী সমাধান মিলছে না বলে মত দিয়েছেন পরিবেশবিদরা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, কেবল কংক্রিটের বাঁধ দিয়ে নদীর ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী ও বিজ্ঞানভিত্তিক সুসংহত নদী ব্যবস্থাপনা। অবিলম্বে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন বন্ধ এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে দেশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bditwork.com