সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি আপত্তিকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মাহবুব আলম, যিনি অতীতে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশাগত দায়িত্বের বাইরে ব্যক্তিগত নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি এর আগেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছিলেন। সম্প্রতি তাঁর ষষ্ঠ স্ত্রী এক গোপন অভিযানে তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটির সূত্রপাত ঘটে রাজধানীর একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে, যেখানে ওই পুলিশ কর্মকর্তা এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে তাঁর ষষ্ঠ স্ত্রী আকস্মিকভাবে সেখানে উপস্থিত হন এবং দুজনকে একসঙ্গে দেখতে পান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে ব্যাপক হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পারিবারিক এই দ্বন্দ্বের জেরে বিষয়টি দ্রুত চাউর হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
এর আগে ২০২৪ সালের চন্দ্রিমা থানায় কর্মরত থাকাকালীন মাহবুব আলম গুরুতর এক অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। সে সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুস হিসেবে খাম গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছিল। ওই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তাঁকে চন্দ্রিমা থানা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। একের পর এক এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়ানোর কারণে তাঁর পেশাগত ক্যারিয়ার নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাহিনীর সামগ্রিক শৃঙ্খলা ও সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি এবং আগের দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়গুলোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ নেবে কি না, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।